খোলা সয়াবিনে লিটারে বেড়েছে ১০ টাকা; গরুর মাংস ৮৫০ ও সোনালি মুরগি ৪০০ ছুঁয়েছে; পরিবহন সংকটে সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল ঈদের পর উৎসবকালীন বাড়তি চাহিদা কমে আসায় পণ্যের দাম হ্রাস পাবে, কিন্তু বাস্তবে ভোজ্যতেল, গরুর মাংস এবং সোনালি মুরগির বাজার এখনো চড়া।
শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন ১৯০-১৯২ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে লিটারপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং দেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মিলগেটেই তেলের দর বেড়ে গেছে।
মাংসের বাজারেও অস্থিরতা কাটছে না। রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা দরে, যদিও কিছু এলাকায় ৮০০ টাকায় পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোজার শুরুতে যে মাংস ৭৫০ টাকায় ছিল, তা ঈদের আগে বেড়ে গিয়ে এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নেই। এদিকে সোনালি জাতের মুরগির দাম এক লাফে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, যা রোজার মাঝামাঝি সময়েও ২৭০-৩২০ টাকার মধ্যে ছিল। ব্রয়লার মুরগির বাজারও সমান্তরালে চড়া থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রোটিনের চাহিদা মেটানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবজির বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পটল ৮০-৮৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৭৫ টাকা এবং বেগুন ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেলের সংকটে ট্রাক ভাড়া এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই তাঁদের চড়া দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। চাল, ডাল ও চিনির দাম স্থিতিশীল থাকলেও আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের বাজারে সামান্য কিছুটা কমতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এখনো পুরোপুরি না কাটায় খুচরা বাজারে খোলা তেলের ওপর চাপ বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি টান দিচ্ছে।
















