যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে সমকামী ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিতর্কিত ‘রূপান্তর থেরাপি’ নিষিদ্ধ করার আইন বাতিল করেছে। আট বনাম এক ভোটে দেওয়া এই রায়ে আদালত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা মনে করেন, কথোপকথনভিত্তিক থেরাপি সীমিত করা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে। তারা বলেন, কোনো অঙ্গরাজ্য এক পক্ষের মত দমন করে অন্য পক্ষকে সমর্থন দিতে পারে না।
রায়ে বলা হয়েছে, একজন থেরাপিস্ট রোগীর সঙ্গে কী আলোচনা করবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হতে পারে। এমনকি সেই আলোচনা যদি কোনো শিশুকে তার যৌন পরিচয় পরিবর্তনে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেও হয়, তবুও তা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা যাবে না।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন একজন বিচারপতি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের রায় অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে এবং এতে শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্যে এই ‘রূপান্তর থেরাপি’ নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো গুরুতর ঝুঁকি জড়িত।
কলোরাডো অঙ্গরাজ্য দাবি করেছিল, তাদের আইন কোনো সাধারণ আলোচনা নিষিদ্ধ করে না, বরং ক্ষতিকর চিকিৎসা পদ্ধতি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে আদালতের রায়ের ফলে এ ধরনের আইন কার্যকর করা ভবিষ্যতে আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এটি একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য একটি পদ্ধতিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করতে পারে।
















