বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নায়েক আক্তার হোসেন নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার, ১২ অক্টোবর ২০২৫, বেলা পৌনে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত বিজিবি সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনীর রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসরুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রথমবারের মতো বিজিবি সদস্য আক্রান্ত
যদিও এর আগে সীমান্তের সাধারণ মানুষ মাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এই প্রথম কোনো বিজিবি সদস্য স্থলমাইনের শিকার হলেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিগত সাড়ে আট মাসে এ নিয়ে ১৫ জনেরও বেশি মানুষ মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বিস্ফোরণের বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বাইশফাঁড়ি এলাকার রেজু আমতলী সীমান্ত চৌকি (বিওপি) থেকে একটি টহলদল বের হয়। দলটি ৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের প্রায় ৫০০ গজের কাছাকাছি সীমান্ত সড়কের পাশে একটি প্রস্তাবিত নতুন বিওপির স্থানে যায়।
জানা গেছে, ওই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি মাইন, তিনটি হাতবোমা এবং একটি মর্টারশেল পাহারার দায়িত্বে ছিল বিজিবির টহলদলটি। সেখানেই হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মাইনের স্প্লিন্টার ও বারুদের আঘাতে নায়েক আক্তার হোসেনের দুই পায়ে গুরুতর জখম হয়।
ধারণা আরাকান আর্মির প্রতি
ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজু আমতলী এলাকাটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধীনে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মাসরুরুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, মাইন বিস্ফোরণের স্থানটি সীমান্তের কাছাকাছি হলেও তা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েছে। তিনি ধারণা করছেন, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে বিজিবি সদস্য আক্তার হোসেন আহত হয়েছেন।
















