ফরিদপুর: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে রাজপথে নেমেছেন দলটির পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা পরীক্ষিত নেতাদের উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধরা আজ দুপুর পৌনে ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উপজেলার ওয়াপদার মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বাঁশ, গাছের গুঁড়ি ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
‘আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের’ কমিটিতে স্থান!
বিক্ষোভকারী নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, নতুন দুটি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় বা এমনকি আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান এবং যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। তাঁরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি দুটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
দ্বন্দ্বে বিভক্ত স্থানীয় বিএনপি, লক্ষ্য সংসদ নির্বাচন
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী বিএনপি বর্তমানে মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, এবং অন্য অংশের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া। এই দুই নেতাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। কমিটি গঠন নিয়ে এই দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভেদই আজকের বিক্ষোভের মূল কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
১০ নভেম্বর ‘চূড়ান্ত’ সময়সীমা
বেলা ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার সময় কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রইসুল ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে যদি ঘোষিত কমিটি দুটি বাতিল করা না হয়, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাব এবং ফরিদপুরের সব সড়ক অবরোধ করে দেওয়া হবে।”
এই ঘটনা স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে গভীর অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। কমিটি বাতিল না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
















