শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার ও ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আবারও ১৪ দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশের পর বাংলাদেশের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটির অভিযোগ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক আসামিদের বিষয়ে সরকারের ‘নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা’ জনমনে হতাশা তৈরি করেছে। তাদের দাবি, আসামিদের গ্রেপ্তারকে শুরুতে সরকারিভাবে সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি ‘ব্যর্থতা’ নির্দেশ করছে।
এ অবস্থায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্বাক্ষরিত ইনকিলাব মঞ্চ জাতির সামনে নিম্নোক্ত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করছে:
১. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই মুহূর্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এটি কোনো অনুরোধ নয়, জনগণের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম।
২. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের কুশীলবদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আসামিরা কীভাবে এবং কাদের মদদে সীমান্ত পাড়ি দিল? গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে থাকা কোন ব্যক্তিগুলো জড়িত ছিলো কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করে অতিদ্রুত নামগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং গ্রেফতার করতে হবে।
৪. ভারতে ‘UAPA’ আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠন করতে হবে। এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অগ্রগতি জাতিকে অবহিত করবে। এই আইনি সেলের মাধ্যমেই ১৫ দিনের মধ্যে খুনীদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে আইনি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. ওসমান হাদি হত্যার বিচার কোনো বদ্ধ ঘরে বা গোপন ট্রায়ালে হবে না। আমরা দাবি করছি, এটি হবে একটি ‘ওপেন ট্রায়াল সিস্টেম’, যা জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। জাতি এই বিচারের স্বচ্ছতা দেখতে চায়, সরাসরি দেখতে চায়।
৬. আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে, ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সাথে কোনো আপস করতে জানে না।
















