যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এই হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
শনিবার দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হুমকিমুক্তভাবে প্রণালী খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং বড় কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
এই হুমকির আগে ট্রাম্প যুদ্ধ কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিলেও এখন তার অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি নিরাপদ করার জন্য চাপের মুখে রয়েছেন।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এখানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাদ দিয়ে অন্যান্য দেশের জন্য প্রণালী খোলা রয়েছে। কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদা করে যোগাযোগও করেছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের সামুদ্রিক হামলার সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের উপকূলে একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বড় ধরনের বোমা হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রাখা ছিল।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামরিক বাস্তবতার মধ্যে কিছুটা অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















