কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত রিয়াদের; ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের
ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের সতর্কতা কাটিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রিয়াদ ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনীকে তাদের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ‘কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডকে আক্রমণের ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার না করার শর্ত দিলেও, বর্তমানে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষ করে জেদ্দা বন্দর ও তায়েফের এই ঘাঁটিটি এখন লোহিত সাগরে মার্কিন বাহিনীর রসদ সরবরাহের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়াদের এই মনোভাব পরিবর্তনের মূলে রয়েছে সৌদি আরবের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামো এবং রাজধানী রিয়াদে ইরানের সরাসরি হামলা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি আরব এখন ইরানকে তাদের ‘জঘন্য আচরণের’ জন্য উপযুক্ত সাজা দিতে বদ্ধপরিকর। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে যে, তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার দেশ অন্তত নয় মাসব্যাপী যুদ্ধের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না।
তবে এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এখনো নীতিগত বিভাজন স্পষ্ট। কাতার ও ওমান এখনো উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান রিফাইনারিতে ইরানের হামলায় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি আমেরিকার যুদ্ধ নয় এবং ইসরাইল মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংকটে টেনে এনেছে। তা সত্ত্বেও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রিয়াদ প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। বর্তমানে সৌদি আরব ও আমিরাত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোনো নৌ-অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, যা যুদ্ধের সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে।
















