গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দ্বারা গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত হওয়া জুলাই জাতীয় সনদে সই না করার অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, তাদের মূল দাবি—সনদটির আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা—পূরণ না হওয়ায় তারা এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এনসিপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি সনদকে আইনি কাঠামো দেওয়া না হয়, তবে এর আয়োজন এবং এর পেছনে এত ত্যাগ স্বীকারের প্রয়োজন ছিল না। কারণ, এটি কেবল একটি ‘অনানুষ্ঠানিক সামাজিক চুক্তি’ (ইনফরমাল সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট) হিসেবেই গণ্য হবে।
রাজনীতিতে যে বার্তা যেতে পারে:
এনসিপি তাদের এই দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখার মাধ্যমে মূলত রাজনৈতিক পরিসরে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে। দলটি মনে করছে, তাদের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘সংস্কার প্রশ্নে স্বকীয়তা’ এবং ‘অন্য কোনো দলের দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া’—এই বিষয়গুলোই জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা নীতি ও যৌক্তিকতার প্রশ্নে আপসহীন এবং কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য স্বাক্ষর করবে না।
বিশ্লেষকদের অভিমত:
এনসিপির এই অনড় অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:
- সমালোচনামূলক মত: কেউ কেউ মনে করছেন, কৌশলগত দিক থেকে এই অবস্থান এনসিপির জন্য খুব একটা সুবিধাজনক নাও হতে পারে। জাতীয় ঐক্যের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি ভুল বার্তা দিতে পারে।
- সমর্থনমূলক মত: আবার অনেকের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে আইনি ভিত্তি চাওয়া একটি ‘যৌক্তিক’ অবস্থান। এই দাবিতে অনড় থেকে এনসিপি তাদের আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততা প্রমাণ করছে।
অবশ্য শেষ মুহূর্তেও এনসিপি তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে সনদে স্বাক্ষর করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ঐকমত্য কমিশনও এই অচলাবস্থা নিরসনে দলটির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
















