ঐকমত্য কমিশনের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত, সুপারিশ হস্তান্তর আজ
ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত বৈঠক সম্পন্ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৫:
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের কাজ শেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা হস্তান্তর করা হবে।
আজ সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন ‘যমুনা’য় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে কমিশনের সমাপনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণের গুরুত্ব:
সমাপনী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সুপারিশমালা তৈরি পর্যন্ত সকল আলোচনা, চিঠি চালাচালি, ছবি, অডিও এবং ভিডিও ডকুমেন্ট সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন,
“এগুলো মহামূল্যবান সম্পদ। জাতি হিসেবে আমরা কোন প্রেক্ষাপটে, কী প্রক্রিয়ায়, কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম, তা সবার জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ এবং উন্মুক্ত থাকা দরকার।”
তিনি মনে করেন, এই দলিলগুলো হবে ইতিহাসের ‘চিরজীবন্ত দলিল’ এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
সংস্কারই মূল অগ্রাধিকার:
কমিশনের সমাপনী বৈঠকে সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেও সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কমিশন সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন,
“জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বাংলাদেশে একটি স্থায়ী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য কাজ করেছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্বের (বিচার, সংস্কার, নির্বাচন) মধ্যে কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করাই ছিল কমিশনের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন,
“চব্বিশে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থান আমাদের যে সুযোগ দিয়েছে, সেটা যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি।” তিনি জানান, কমিশন সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জনগণ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে পায়। কমিশনের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর শেষ হবে এবং এরপরও প্রয়োজন হলে তারা ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবেন।
শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা:
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সদস্য বদিউল আলম মজুমদার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ‘নিবিষ্টতা ও সাহসিকতা’ প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন,
“গণ-অভ্যুত্থানে এত তাজা প্রাণ ঝরে গেল, এত মানুষ আহত হলো—এটা স্মরণে রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার যাতে নিশ্চিত হয়। এই সুযোগ যেন না হারাই।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার শহীদ পরিবারগুলোর অনুভূতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন,
“শহীদ পরিবারের প্রত্যেকেই আমাদের জানিয়েছে, সংস্কার নিশ্চিত করা না হলে তাদের সন্তানদের জীবন উৎসর্গ করা বৃথা যাবে বলে তারা মনে করেন।”
বিচারপতি এমদাদুল হক এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের সময়কার ঐক্য ও আন্তরিকতার ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরেন। দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামানও দুদক সংস্কারে দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশমালা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজ শেষ হবে।
















