বৈশ্বিক অস্থিরতায় কমছে ক্রয়াদেশ, দুশ্চিন্তায় রপ্তানিকারকরা
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, এই আট মাসে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ১৯০ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের পণ্য, যা আগের বছর ছিল ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে
প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও পরবর্তী সাত মাস টানা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানি খাত সংকটের মুখে পড়েছে।
রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দেওয়া তৈরি পোশাক খাতেও ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও লোহিত সাগরের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পণ্য পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
একইসঙ্গে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেওয়ায় আগামী তিন মাসে রপ্তানি পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা কম। তবে এর মধ্যেও চামড়া, পাটজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য এবং চীনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি (১৯.১২%) লক্ষ্য করা গেছে।
















