কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষে নিহত বেসামরিক ও সেনা সদস্য; জাতিসংঘের ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে হাজারের বেশি মানুষ
দক্ষিণ সুদানের রুয়েং প্রশাসনিক এলাকায় সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৯ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রোববার প্রতিবেশী ইউনিটি রাজ্যের মায়োম কাউন্টি থেকে আসা একদল সশস্ত্র যুবক আবিয়েমনহোম কাউন্টিতে হামলা চালায়।
রুয়েংয়ের তথ্য মন্ত্রী জেমস মনিউলুয়াক মিজোক জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৯০ জন বেসামরিক নাগরিক—যাদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন—এবং ৭৯ জন সরকারি সেনাসদস্য। হামলায় আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কাউন্টি কমিশনার ও নির্বাহী পরিচালকও রয়েছেন। সোমবার ১৬৯টি মরদেহ গণকবরে দাফন করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে এবং পরে সেনাবাহিনী হামলাকারীদের হটিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। রুয়েং প্রশাসন এ ঘটনাকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন গত ৪৮ ঘণ্টায় সহিংসতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাতিসংঘ ঘাঁটিতে এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জংলেই রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের বা এমএসএফ জানিয়েছে, তাদের ২৬ জন কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। লানকিয়েন ও পিয়েরি এলাকায় কর্মরত ২৯১ জন কর্মীর মধ্যে এদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই দুই স্থানে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, সহিংসতার মুখে অনেক কর্মী পরিবারসহ পালাতে বাধ্য হয়েছেন এবং দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে খাদ্য, পানি ও মৌলিক সেবার অভাব রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে লানকিয়েনের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র সরকারি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই গৃহযুদ্ধ, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিতে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান। ২০১৮ সালের শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে, যা নতুন করে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
















