তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত; যুদ্ধের নীতিমালা মানার আহ্বান আন্তর্জাতিক মহলের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল ও মানবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সংহতি চেয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্টের স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র—কোনোটিই রেহাই পাচ্ছে না।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান পির হোসেইন কোলিভান্দ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়ে শিশু, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব ফেলা হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জেনেভা কনভেনশনের অধীনে পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার দাবি তোলেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ চেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ যুদ্ধ শুরুর সময় এক বিবৃতিতে বলেন, হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ও স্কুলের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে হামলা থেকে রক্ষা করা বাধ্যবাধকতা; চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবাদাতাদের নিরাপদে কাজ করতে দিতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো কোনো হাসপাতালে সরাসরি আঘাতের নিশ্চিত তথ্য নেই। তেহরানের গান্ধী হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণে চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হয় এবং ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বিভাগ ধ্বংস হয়েছে বলে দেশটির মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রধান জানান। সেখানে শিশু ও নবজাতকদের সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও প্রচারিত হয়েছে।
খাতাম আল-আনবিয়া হাসপাতাল, মোতাহারি হাসপাতাল ও ভলিয়াসর হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানানো হয়েছে। তেহরানের প্রাদেশিক জরুরি সেবা দপ্তরের প্রধান ভবনেও বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, এতে কয়েকজন কর্মী আহত হন। আহভাজের আবুজার শিশু হাসপাতালসহ পূর্ব আজারবাইজান, সিস্তান-বালুচিস্তান ও হামেদান প্রদেশের কয়েকটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রেও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্কুলও হামলার শিকার হয়েছে। তেহরানের নারমাক এলাকায় একটি উচ্চবিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্তত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। দক্ষিণের মিনাব শহরের একটি কন্যাশিশু বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের খবর তদন্ত করছে; ইসরায়েল বলেছে, ওই এলাকায় তাদের হামলার তথ্য নেই।
এদিকে শিক্ষা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ফেডারেশন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শিশু, শিক্ষক ও স্কুল কখনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না; এটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
ইরানের হিসাবে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৩১টি কাউন্টিতে হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় বেসামরিক স্থাপনা সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জোরদার হচ্ছে।
















