সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, ‘প্রতিরক্ষামূলক’ ভূমিকার দাবি; আন্তর্জাতিক আইন ও জনমতের চাপে লন্ডন
সাইপ্রাসের দক্ষিণে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন আঘাত হানার পর মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় লন্ডনের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রানওয়েতে আঘাত করা ড্রোনে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে ব্রিটিশ ও সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর ঘাঁটির দিকে আসা আরও দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়।
এই ঘটনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ব্রিটিশ ঘাঁটি ‘প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ওয়েস্টমিনস্টার। তার ভাষ্য, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা মজুতস্থল থেকে হুমকি নস্যাৎ করাই উদ্দেশ্য। ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতেও তিনি ‘সমানুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’র কথা বলেন।
তবে আইনি প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধ পরিচালনা ও যুদ্ধকে সহায়তা—দুই ক্ষেত্রেই দায়বদ্ধতার প্রশ্ন ওঠে। লন্ডন শুরুতে জাতিসংঘ সনদের আত্মরক্ষার সংজ্ঞা পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিল বলে জানা যায়। পরে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার যুক্তিতে ‘সমষ্টিগত আত্মরক্ষা’র ভিত্তি তুলে ধরা হয়।
সামরিক দিক থেকেও জটিলতা রয়েছে। ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করলে ইরানের আকাশসীমায় পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে, ফলে মিশন-পর্যায়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাজ্য বলছে, নির্দিষ্ট ‘প্রতিরক্ষামূলক’ লক্ষ্যেই অভিযান সীমিত থাকবে; কিন্তু বাস্তবে সুযোগ এলে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তনের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না—এমন আশঙ্কা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের।
আরেকটি দুর্বলতা হলো, যুক্তরাজ্যের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাই উৎক্ষেপণের আগে হুমকি নস্যাৎ করার যুক্তিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে দেশটি আইনি সতর্কতা, সামরিক ঝুঁকি ও কৌশলগত নির্ভরতার এক ধূসর অঞ্চলে অবস্থান করছে।
দেশের ভেতরেও সমর্থন সীমিত। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর অনুমতিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশ নাগরিক সমর্থন করেন না। ফলে আন্তর্জাতিক আইন, মিত্রতার দায় ও জনমতের ভারসাম্য রক্ষা—তিন দিকেই কঠিন সমীকরণের মুখে লন্ডন।
















