আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে তেহরান; দল মেল্লির সূচি, ভিসা ও বিকল্প দল নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাল্টা জবাবে তেহরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ অবস্থায় আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ম্যাচ আয়োজন ও দল-সমর্থকদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজন করবে ফিফা; যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচ ১১ জুন মেক্সিকোতে, ফাইনাল ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে। ইরান রয়েছে গ্রুপ ‘জি’-তে—বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে নির্ধারিত।
দল মেল্লির সূচি:
১৫ জুন: ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম
২১ জুন: বেলজিয়াম বনাম ইরান, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম
২৬ জুন: মিসর বনাম ইরান, সিয়াটল স্টেডিয়াম
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, হামলার পর বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী থাকা কঠিন। অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—সে বিষয়ে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হবে।
ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানিয়েছেন, সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আয়োজক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
ভিসা ও ভ্রমণ ইস্যুও বড় বাধা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইরান অন্তর্ভুক্ত থাকায় সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া জটিল হতে পারে, যদিও খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত অংশ না নেয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল নেওয়ার প্রশ্ন উঠবে। নজির না থাকলেও, কোনো দল সরে দাঁড়ালে একই মহাদেশীয় কোটার অন্য দলকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। যোগ্যতা পর্বের অবস্থান অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম আলোচনায় আছে; আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে ইরাক ব্যর্থ হলে তারাও বিবেচনায় আসতে পারে।
বর্তমানে ইরান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয়। তারা সাতবার বিশ্বকাপে খেলেছে, টানা শেষ তিন আসরে অংশ নিলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। সংঘাত না থামলে বিশ্বকাপের লজিস্টিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
















