দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অল্পসংখ্যক উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি; অঞ্চলজুড়ে এখনো লাখো যাত্রী আটকে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৃষ্ট ভ্রমণ বিশৃঙ্খলার মধ্যেই সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সোমবার দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল বিমানবন্দর থেকে অল্পসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সরাসরি নিজ নিজ এয়ারলাইনের কাছ থেকে নির্ধারিত উড্ডয়ন সময়ের নিশ্চিত বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দিয়েছে।
দুবাইভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইন সোমবার সন্ধ্যায় সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। আগের বুকিং থাকা যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আবুধাবিভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু কার্গো, পুনর্বিন্যাস ও নাগরিক প্রত্যাবাসন ফ্লাইট পরিচালিত হতে পারে।
ফ্লাইট অনুসরণকারী ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আবুধাবি থেকে লন্ডন, আমস্টারডাম, মস্কো ও রিয়াদের উদ্দেশে অন্তত ১৬টি ইতিহাদ ফ্লাইট ছেড়ে গেছে। দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া এমিরেটসের অন্তত দুটি ফ্লাইট মঙ্গলবার ভোরে ভারতের মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে অবতরণ করেছে। তবে পরবর্তীতে আবুধাবিগামী দুটি ফ্লাইট ওমানের মাসকাটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং দুবাইগামী একটি ফ্লাইট মুম্বাই অভিমুখে ফিরে যায়।
বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত সাধারণত ভৌগোলিকভাবে সীমিত থাকলেও এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে, কারণ এটি পূর্ব-পশ্চিমের গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথগুলোকে প্রভাবিত করে এবং দ্রুত বৈশ্বিক যাতায়াতে প্রভাব ফেলে।
ইরাকে, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে অঞ্চলজুড়ে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে বিমান তথ্য সংস্থার হিসাব বলছে। এতে লাখো যাত্রী আটকা পড়েছেন এবং বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল জানিয়েছেন, বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের সৌদি আরব ও ওমান থেকে সরিয়ে নিতে চার্টার্ড উড়োজাহাজ পাঠানো হবে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, সংঘাত কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বিমান খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে অনেক সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হতে পারে এবং বিকল্প নিরাপদ কেন্দ্রের দিকে বিমান চলাচল সরে যেতে পারে।
















