ড্রোন হামলার পর কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করায় বিশ্ব গ্যাসবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ড্রোন হামলায় মেসাইদ শিল্পনগরীর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংক এবং রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতের খবর না থাকলেও নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাস লাফান কমপ্লেক্স বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ এলএনজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। এখান থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস রপ্তানি করা হয়। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিগত দায় থেকে অব্যাহতির বিশেষ বিধান কার্যকর করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অন্তত ১৫০টি জাহাজ নোঙর করে আছে এবং এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। প্রায় ৭০০ জাহাজ দুই প্রান্তে আটকে আছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কাতার বিশ্ব এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে এই সরবরাহ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ও এশীয় গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এশিয়ার মানদণ্ড এলএনজির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে, বিশেষ করে যদি কাতার বা অন্য কোনো উৎপাদনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এটি এখনো পূর্ণমাত্রার সংকটে পরিণত হয়নি। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ যে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল, তেমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা আপাতত কম বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে। চীন বিশ্বে সবচেয়ে বড় গ্যাস আমদানিকারক হলেও তারা অধিকাংশ গ্যাস অস্ট্রেলিয়া থেকে সংগ্রহ করে।
বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক যুক্তরাষ্ট্র, এরপর কাতার ও অস্ট্রেলিয়া। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যদিও কাতারের অধিকাংশ বিক্রি এশিয়ায় যায়, উৎপাদন বন্ধ থাকলে ইউরোপেও চাপ বাড়বে। একই চাহিদা পূরণে কম সরবরাহ থাকলে দাম বাড়াই স্বাভাবিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাস সমন্বয় গ্রুপ পরিস্থিতি মূল্যায়নে বৈঠকে বসছে। তারা গ্যাস মজুত ও সরবরাহ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে এবং সংকটকালে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতার দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখলে বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে এবং বিকল্প সরবরাহের জন্য দেশগুলোকে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে, যা দাম আরও বাড়াতে পারে।
















