২ লাখ সদস্যের মতামত নিচ্ছে সদরদপ্তর; অন্তর্বর্তী সরকারের পোশাক নিয়ে তীব্র অসন্তোষ
পুলিশ বাহিনীর পোশাকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সদরদপ্তরের উদ্যোগে দেশব্যাপী এক বিশাল জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার ২ লাখেরও বেশি সদস্যের কাছে তিনটি বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে: তারা কি আগের পোশাকে ফিরতে চান, বর্তমান পোশাকে থাকতে চান নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো পোশাক চান। মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, সিংহভাগ সদস্যই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবর্তিত ‘লৌহ রঙের’ ইউনিফর্ম ত্যাগ করে আগের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলের মধ্যেই এই জরিপের ফলাফল সদরদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরিপ ও পোশাক বিতর্কের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জরিপের ফলাফল ও মাঠপর্যায়ের চিত্র: দেশের বিভিন্ন জেলার এসপি ও ইউনিটের প্রধানরা জানিয়েছেন, সদস্যরা বর্তমান পোশাকের ব্যাপারে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
- চট্টগ্রাম রেঞ্জ: একটি জেলার ২,৩১০ জন সদস্যের মধ্যে ২,৩০৯ জনই আগের পোশাকে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন।
- সাধারণ পর্যবেক্ষণ: ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিটেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ সদস্যই বর্তমান ইউনিফর্মটিকে ‘সিকিউরিটি গার্ড’-দের পোশাকের মতো মনে করছেন এবং এটি রাতে দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ তুলেছেন।
২. বর্তমান পোশাক নিয়ে যত অভিযোগ: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত ১৪ নভেম্বর থেকে চালু হওয়া এই পোশাক নিয়ে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। তাদের মূল অভিযোগগুলো হলো:
- সাদৃশ্য ও দৃশ্যমানতা: এই ইউনিফর্ম অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিলে যায় এবং রাতের ডিউটিতে সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
- আবহাওয়া: দেশের আবহাওয়ার জন্য এই কাপড় ও রং উপযোগী নয়।
- মতামত উপেক্ষা: মাঠপর্যায়ের সদস্যদের রুচি ও মতামতকে পাত্তা না দিয়ে অনেকটা জোর করেই এই পোশাক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
৩. কেনাকাটায় দুর্নীতির ছায়া: অভিযোগ উঠেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার কাজ দেওয়া হয়েছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে, যার মালিকের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এই বিশাল অর্থের অপচয় নিয়ে এখন বাহিনীর ভেতরে সমালোচনা চলছে।
৪. আগের পোশাকের ঐতিহ্য (২০০৪ সালের গেজেট): সদস্যরা ২০০৪ সালে নির্ধারিত হালকা জলপাই (মেট্রো) এবং গাঢ় নীল (জেলা) পোশাকটিকে পেশাদারত্বের প্রতীক মনে করেন। সেই সময় গায়ের রং, আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা বিবেচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, নতুন পোশাকের চেয়ে বাহিনীর আধুনিকায়নে অর্থ ব্যয় করা এখন বেশি জরুরি।
৫. পরবর্তী পদক্ষেপ: পুলিশ সদরদপ্তরের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জরিপে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেহেতু সিংহভাগ সদস্য আগের পোশাকে ফেরার পক্ষে, তাই খুব দ্রুতই পুলিশ বাহিনীকে তাদের পুরনো চেহারায় দেখা যেতে পারে।
















