যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে করাচিতে, সেখানে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। গিলগিট-বালতিস্তানের স্কারদুতে নিহত হয়েছেন অন্তত আটজন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
ইসলামাবাদের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত রেড জোন এলাকায় হাজারো মানুষ সমবেত হন। সংসদ ভবন, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত এই এলাকায় বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন। কয়েক হাজার নারী-শিশুসহ মানুষ খামেনির ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সমাবেশে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ কূটনৈতিক এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির শব্দ শোনার কথাও জানান। ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে অন্তত দুটি মরদেহ এবং ৩৫ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
করাচিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মাই কোলাচি সড়কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন। একদল যুবক কনস্যুলেটের বাইরের ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলীয় গিলগিট-বালতিস্তানেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। স্কারদু শহরে জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একটি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।
লাহোরে মার্কিন দূতাবাসের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। কেউ কেউ ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পেশাওয়ার, মুলতান ও ফয়সালাবাদেও বড় সমাবেশ হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার যৌথ হামলার নিন্দা জানালেও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বজায় রেখে আসছে। দেশটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান সমর্থন করে।
















