যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার জানিয়েছেন, একটি টেলিভিশন আলোচনামূলক অনুষ্ঠানকে ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে এক প্রার্থীর উপস্থিতি সম্প্রচার নীতিমালার ‘সমান সময়’ বিধির নতুন ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সম্প্রতি টেক্সাসের অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি জেমস তালারিকো, যিনি সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী, একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দ্য ভিউতে অংশ নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে। একই সময়ে কৌতুকাভিনেতা স্টিফেন কোলবার্ট অভিযোগ করেন, তার অনুষ্ঠানে তালারিকোর সাক্ষাৎকার প্রচারে নেটওয়ার্কের আইনজীবীরা বাধা দিয়েছেন।
কার বলেন, এখানে কোনো ধরনের সেন্সরশিপ হয়নি। তার ভাষ্য, যে কোনো সম্প্রচারমাধ্যমকে নিশ্চিত করতে হবে তারা কমিশনের নিয়ম মেনে চলছে কি না। নিয়ম ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমকে দায় বহন করতে হবে।
১৯৩৪ সালের যোগাযোগ আইনের ৩১৫ ধারায় ‘সমান সময়’ নীতি উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো সম্প্রচারমাধ্যম এক প্রার্থীকে সময় দিলে একই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীদেরও সমান সুযোগ দিতে হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছাড় ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিশন নতুন নির্দেশনায় জানায়, বিনোদনধর্মী টকশো ও রাতের কৌতুক অনুষ্ঠান এ ছাড়ের আওতায় পড়ে না।
এই সিদ্ধান্তের পর বিতর্ক তীব্র হয়। কোলবার্ট তার অনুষ্ঠানে বলেন, প্রশাসন সমালোচনামূলক বক্তব্য ঠেকাতে চাইছে। পরে তার সাক্ষাৎকারটি টেলিভিশনে না দেখিয়ে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিপুল দর্শকসংখ্যা অর্জন করে।
কমিশনের চেয়ারম্যানের মতে, অনুষ্ঠানটি চাইলে অন্যান্য প্রার্থীকেও আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ম মেনে সম্প্রচার করতে পারত, অথবা নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যে সম্প্রচার সীমিত রাখতে পারত। তবে সমালোচকেরা বলছেন, নতুন ব্যাখ্যা সংবাদ ও বিনোদনের সীমারেখা অস্পষ্ট করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় চাপ সৃষ্টি করছে।
তালারিকো সামাজিক মাধ্যমে জানান, এই বিতর্কের জেরে তার প্রচারণা ব্যাপক আর্থিক সমর্থন পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র একদিনে তার প্রচারণা তহবিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান জমা হয়েছে।
সমান সময় নীতির নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্বাচনী ন্যায্যতা প্রশ্নে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
















