চট্টগ্রামে টেলিভিশন সাংবাদিক পরিচয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও গাড়ি লুটের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লুট হওয়া সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন — আবদুল মতিন, আশরাফুল ইসলাম, মো. মোমিন, শারমিন আখতার, নূর মোহাম্মদ সাব্বির, রুবেল হোসেন এবং মো. ফয়সল।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বায়েজিদ বোস্তামী, ইপিজেড ও কোতোয়ালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশ লুট হওয়া টয়োটা করোলা গাড়ি ও ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম ডিবির উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, খুলশি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর ডিবি টিম অভিযানে নামে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
ডিবি পরিদর্শক আফতাব হোসেন বলেন, “ঘটনার দিন তারা হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে নিজেদের টিভি সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেয়, কিন্তু আসলে তাদের কারও সঙ্গে কোনো গণমাধ্যমের যোগসূত্র নেই।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের বেশিরভাগই শহরের বিভিন্ন স্থানে দোকানে কাজ করে। আমরা সন্দেহ করছি, তারা এর আগেও সাংবাদিক সেজে এমন অপরাধে জড়িত ছিল, কিন্তু অনেক ভুক্তভোগী হয়তো ভয় বা লজ্জায় অভিযোগ করেননি।”
পুলিশ জানায়, ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম শহরের খুলশি এলাকার একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
প্রায় ১০–১২ জনের একটি দল ‘মাই টিভি’ নামের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। এরপর তারা বাসার সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
পরে তারা বাড়ির গৃহকর্মীকে নিচে নিয়ে যায়, বলে যে নতুন কেনা গাড়িটি “পরিদর্শন” করতে হবে। এরপর তারা গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে গাড়িসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর খুলশি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ বলছে, বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও তাদের সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধচক্রের যোগসূত্র আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।
















