লেবানন থেকে প্রতিবেদন—দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানেসেকে ঘিরে বিতর্কের জেরে বর্তমান ও সাবেক জাতিসংঘকর্মীরা তার পক্ষে সরব হয়েছেন। একটি ইসরায়েলপন্থী বেসরকারি সংস্থার প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও কয়েকজন ইউরোপীয় মন্ত্রীর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তারা এই অবস্থান নেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও আলবানেসে সরাসরি জাতিসংঘের কর্মী নন। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একটি সংস্থা দোহা ফোরামে তার বক্তব্যের সম্পাদিত অংশ ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করে, তিনি নাকি ইসরায়েলকে “মানবতার অভিন্ন শত্রু” বলেছেন। তবে তার পূর্ণ বক্তব্যে এমন কোনো মন্তব্য ছিল না; তিনি বলেন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মানই মানবজাতির মুক্তির শান্তিপূর্ণ পথ।
এই প্রচারণার পর অস্ট্রিয়া, চেকিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির কয়েকজন কর্মকর্তা তার সমালোচনা করেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো আগামী অধিবেশনে তার পদত্যাগ দাবি করবেন বলে জানান। যদিও ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পরে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বক্তব্য বিকৃত ভিডিওর ভিত্তিতে নয় এবং আগেও আলবানেসের পুনর্নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
এর জবাবে “গাজা বিষয়ক ঐক্যবদ্ধ কর্মী” নামে প্রায় আড়াই হাজার বর্তমান ও সাবেক জাতিসংঘকর্মীর একটি প্ল্যাটফর্ম বিবৃতি দিয়ে জানায়, বিশেষ প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, তীব্র ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ দুঃখজনক। তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভয়ভীতি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।
আলবানেসে ২০২২ সালের মে মাসে বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থানের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থাও এক বিবৃতিতে জানায়, তাকে চুপ করিয়ে দিতে এবং স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিবেদন ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও ইউরোপীয় মন্ত্রীদের সমালোচনা করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার বলেন, বিকৃত ভিডিওর ভিত্তিতে জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞকে আক্রমণ করা নিন্দনীয়। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সমালোচনার মুখেও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার পদত্যাগ দাবির অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
















