সস্তা ও ব্যাপক সংখ্যায় ব্যবহৃত ড্রোন আধুনিক যুদ্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। হাজার হাজার স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রতিহত করতে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ। এ বাস্তবতায় লেজারভিত্তিক অস্ত্রকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে উড়ন্ত একটি ড্রোনকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লেজার রশ্মি দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ড্রোনটির ডানা ভেঙে পড়ে এবং তা মাটিতে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এমন প্রযুক্তি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে বাস্তব ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
লেজার অস্ত্রের ধারণা নতুন নয়। বিংশ শতকের ষাটের দশকে লেজার উদ্ভাবনের পর থেকেই সামরিক ব্যবহারের স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা দীর্ঘদিন বাস্তবায়িত হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঠিন পদার্থভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির উন্নতি এবং বেসামরিক শিল্পে এর অগ্রগতির ফলে সামরিক প্রয়োগও সহজ হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, লেজার ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে তুলনামূলক কম খরচ হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রতিটি আঘাতে আলাদা অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই; বিদ্যুৎশক্তিই প্রধান উপাদান। ফলে ব্যাপক ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে।
বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লেজার ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স নিজস্ব প্রকল্পে কাজ করছে। ইউরোপে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। লেজার রশ্মি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তা অনেক দূর পর্যন্ত সোজা এগিয়ে যেতে পারে, যা বেসামরিক বিমান বা উপগ্রহের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কুয়াশা, বৃষ্টি বা ধুলাবালু লেজারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাছাড়া উচ্চ তাপ উৎপাদনের কারণে যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেজার কোনো একক সমাধান নয়। এটি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অন্যান্য অস্ত্রের সঙ্গে কাজ করবে। শুরুতে সীমান্ত, নৌজাহাজ বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় এর ব্যবহার বেশি দেখা যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুতগতিতে বহু ড্রোন একসঙ্গে ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন। গবেষণাকারীরা প্রতি মিনিটে আরও বেশি লক্ষ্যবস্তু আঘাত করার প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছেন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, লেজার অস্ত্র এখনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়, তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এটিকে ড্রোনবিরোধী প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়ে পরিণত করতে পারে।
















