অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনকারী ফ্রানচেস্কা আলবেনেজকে অপসারণের আহ্বানের মধ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন শতাধিক খ্যাতিমান শিল্পী, লেখক ও সংগীতশিল্পী। শিল্পীদের সংগঠন ‘আর্টিস্টস ফর প্যালেস্টাইন’-এর এক খোলা চিঠিতে তারা আলবেনেজের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
চিঠিতে বলা হয়, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানেই ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো। তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ বলপ্রয়োগ নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা দেখতে চান।
সমর্থকদের মধ্যে অভিনেতা মার্ক রাফালো ও হাভিয়ের বারদেম, নোবেলজয়ী লেখক অ্যানি এরনো এবং ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী অ্যানি লেনক্স রয়েছেন।
সম্প্রতি এক আলোচনায় আলবেনেজ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া ভিডিওতে তাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনো দেশকে নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থাকে ‘সাধারণ শত্রু’ বলেছেন যা ফিলিস্তিনে গণহত্যা সম্ভব করেছে।
তবে ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তার পদত্যাগ দাবি অব্যাহত রেখেছে। ফ্রান্সের একদল আইনপ্রণেতা তার বক্তব্যকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তার অবস্থানকে ‘অটেকসই’ বলেছেন।
লেখক ও প্রযোজক ফ্র্যাঙ্ক বারাত বলেন, পশ্চিমা সরকারগুলো আন্তর্জাতিক আইন সমর্থনের কথা বললেও বাস্তবে তারা ইসরায়েলের সমালোচনা দমনে সক্রিয়। তার মতে, আলবেনেজ গত দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যা প্রতিরোধে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরায় তিনি রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র মার্তা হুরতাদো বলেন, স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এতে গুরুতর মানবাধিকার ইস্যুগুলো থেকে মনোযোগ সরে যায়।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন।
















