জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি তাদের কাছে বিনা শর্তে ক্ষমা চাচ্ছেন। তিনি বলেন, “এটা যদি গোটা জাতিও হয়, তবুও চাই। যদি একজন মানুষও হয়, তবুও চাই। এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।”
স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “আমি তখন সাড়ে ১২ বছরের শিশু ছিলাম। রাজনীতি করার বয়স ছিল না। তবে আমার আত্মীয়দের কেউ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার ব্যক্তিগত অবস্থান ও দলের অবস্থান এক নয়। তৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশ ও মানুষের অনেক ক্ষতি হয়েছিল, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান সময়কালে সামরিক শাসক ও মুসলিম লীগ দেশ চালিয়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় সব আসনে জয় পায়। তখন জামায়াতই প্রথম দল ছিল যারা নির্বাচিত দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি তোলে। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায় এবং দেশ স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়।”
শফিকুর রহমান বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে যুদ্ধাপরাধ ও সহযোগী আইন প্রণয়ন করেন। ২৪ হাজার মামলা হয়, ১৯৫ জনকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের কেউই পূর্ব পাকিস্তানের ছিলেন না। বাকি যারা কোলাবোরেটর আইনে অভিযুক্ত হন, তাদের অনেককে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের তৈরি রাজাকার তালিকায় ৮ হাজারের বেশি আওয়ামী লীগের কর্মীর নাম ছিল, যেখানে জামায়াতের মাত্র ৩৭ জনের নাম পাওয়া গেছে। অথচ যখনই জামায়াতের নাম আসে, তখনই ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।”
জামায়াত আমীর বলেন, “স্বাধীনতার সময় জামায়াত পাকিস্তানের ঐক্য চেয়েছিল, যা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এটা স্বীকার করছি। তবে সেই সময়ে দলীয় নেতৃত্ব যে প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারাই ভালো বলতে পারতেন। আমাদের পূর্বসূরিরা জীবদ্দশায় এই বিষয়ে একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন। আমিও এর আগেও অন্তত তিনবার ক্ষমা চেয়েছি—প্রফেসর গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান এবং আমি নিজেও।”
তিনি বলেন, “আমরা মানুষ, ভুল আমাদের হয়েই থাকতে পারে। যদি আমাদের কোনো সিদ্ধান্তে জাতির ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। কেউ কেউ বলে, ভিন্ন ভাষায় ক্ষমা চাইতে হবে—কিন্তু আমি আজও বলছি, বিনা শর্তে ক্ষমা চাচ্ছি। কোনো শর্ত দিইনি, কোনো ব্যাখ্যাও দিইনি।”
শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজ ২২ অক্টোবর ২০২৫, যুক্তরাষ্ট্রের সময় রাত ৮টা ১১ মিনিট। ১৯৪৭ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, আমরা তাদের কাছে বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। এটা যদি পুরো জাতি হয়, বা কোনো ব্যক্তি—সবাইয়ের কাছেই চাই। আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই, এবং যারা আমাদের ভুল শুধরে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
















