ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরীটি ক্যারিবীয় অঞ্চল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
হোয়াইট হাউসে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজনে বড় সামরিক শক্তি প্রস্তুত রাখা হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল হতে পারে। তবে চুক্তি না হলে তা ইরানের জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে সেটিই সবচেয়ে ভালো হবে। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে কথা চললেও এর মধ্যে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে, ইঙ্গিত দেন সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন-পীড়নের দিকে।
জেরাল্ড আর ফোর্ডের মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির অংশ। এর আগে আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। গত জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর এ ধরনের আলোচনা এই প্রথম। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও সীমিতভাবে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সেই অভিযানের নাম ছিল মিডনাইট হ্যামার। তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যে কোনো চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও সীমিত করতে হবে। তবে তেহরান এ বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে যাওয়ার পর তেহরান আগের সীমার বাইরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে, যদিও তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পরিদর্শকরা ইরানে ফিরলেও লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাগুলোতে এখনো যেতে পারেননি। ইরানের সঙ্গে সংলাপ কঠিন হলেও চালু আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর নতুন হামলা হলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। গাজা যুদ্ধের প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারা অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
















