শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটে গণতন্ত্রের জয়; দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য নিশ্চিত করল ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ঐতিহাসিক গণভোট নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোটগ্রহণ শেষে এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই বিজয়কে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃস্বপ্ন ও ভোটাধিকার হরণের গ্লানি মুছে আজ জাতি গণতন্ত্রের সঠিক ট্রেনের যাত্রী হয়েছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মানুষই সব ক্ষমতার উৎস। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে গড় ভোটের হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ, যা বিকেলের শেষে আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ছোটখাটো সহিংসতা ছাড়া ২৯৯টি আসনেই সুশৃঙ্খলভাবে ব্যালট যুদ্ধ সম্পন্ন হওয়ায় একে দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য সাধারণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর থেকেই প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন উৎফুল্ল। তিনি বলেন, “আজকের এই মুক্তির দিন এবং নতুন স্বপ্নের শুরুর দিনে আমি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।” তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও গণতান্ত্রিক শালীনতা ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। ইসি সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দুপুর ১২টায় যেখানে ভোটের হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ, দুপুর ২টার মধ্যেই তা বেড়ে প্রায় ৪৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোট গণনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠের সর্বশেষ চিত্র বলছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট চললেও খুলনা ও কুমিল্লার কয়েকটি স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কুমিল্লা-৮ ও পটুয়াখালী-১ এর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে ভোট স্থগিতের দাবি জানালেও ইসি জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ ছিল প্রশ্নাতীত।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক দলগুলোও এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। এখন প্রবাসীদের দেওয়া পোস্টাল ব্যালট এবং কেন্দ্রের ব্যালট গণনার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরির কাজ চলছে।
















