১৮ মাস পর ব্যালট যুদ্ধে বাংলাদেশ; নজর রাখছে রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরা
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দলীয় প্রভাবমুক্ত এই নির্বাচনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। রয়টার্স থেকে শুরু করে বিবিসি—সবার প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্তরণের চিত্র।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা এবং গার্ডিয়ানের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে লাইভ আপডেট ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে।
বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ:
- বিবিসি (BBC): ‘জেন-জি বিপ্লবের পর প্রথম নির্বাচন’ শিরোনামে বিবিসি একটি বিশেষ লাইভ পেজ পরিচালনা করছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে হওয়া গণভোট বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও তরুণদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে।
- রয়টার্স (Reuters): বার্তা সংস্থাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারির ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোট দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে পোশাক খাতের সংকট কাটাতে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
- আল জাজিরা (Al Jazeera): কাতারভিত্তিক এই গণমাধ্যমটি সারা দেশে ২৯৯টি আসনের লড়াই নিয়ে লাইভ সম্প্রচার করছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা। তবে অনলাইন জুড়ে গুজব ও এআই-নির্মিত অপপ্রচারের ঝুঁকি নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
- দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian): ব্রিটিশ এই দৈনিকটি বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আলোকপাত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির’ প্রতিশ্রুতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জামায়াত ও ইসলামী জোটের উত্থান সেক্যুলার রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
- ভারতীয় ও অন্যান্য গণমাধ্যম: এনডিটিভি ও দ্য ডন-এর মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমে খুলনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু এবং গোপালগঞ্জে হাতবোমা হামলার মতো বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বিশেষ করে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, আজকের এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্বের ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ২০০ সাংবাদিক সরাসরি মাঠ থেকে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
















