কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বললেন—গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা
বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ।
প্রধান দুই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হলেন বিএনপির তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তারেক রহমান দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে জনমত অর্জনের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে শফিকুর রহমান তার দলকে পরিবর্তনের উপযোগী আধুনিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ২০০৮ সালের পর এটিকে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে দেখছেন অনেক ভোটার। রাজধানীর গুলশানের এক নারী ভোটার বলেন, দেশের অগ্রগতি, গণতন্ত্র ও সবার অধিকার নিশ্চিত হোক—এই প্রত্যাশা নিয়ে তিনি ভোট দিয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, অতীতের সাজানো নির্বাচনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এটাই সুযোগ। তিনি জানান, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ট্রেনে আরোহন করেছে।
নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক, নির্বাচন ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব দেন, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, নির্বাচনে বিজয়ী দল সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
অর্থনৈতিক চাপ, তরুণদের বেকারত্ব এবং স্থবির প্রবৃদ্ধি নতুন প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নতুন সরকারকে জলবায়ু অভিযোজন, পানিসম্পদ নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার পর ভোটগ্রহণ শেষ হলে হাতে গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল শুক্রবার সকাল নাগাদ স্পষ্ট হতে পারে।
















