ইসির ওপর আস্থা ফিরেছে বলেই ভোটারদের ঢল; গুজব ঠেকাতে গণমাধ্যমকে সজাগ থাকার আহ্বান
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বদলে কুকুরের উপস্থিতির যে চিত্র দেখা যেত, আজ তা বদলে গেছে। এখন সব কেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি নাসির উদ্দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভোটের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারিকে তিনি ‘গণতন্ত্রের নতুন শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সিইসি’র বক্তব্যের প্রধান দিকসমূহ:
- আস্থা পুনরুদ্ধার: সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা এরই মধ্যে ফিরে এসেছে। তা না হলে তো এত লোক আসত না। আপনারা অতীতে ভোটকেন্দ্রে কুকুরের ছবি দেখিয়েছেন, আজ তো কুকুর খুঁজে পাবেন না। এখন সব মানুষ আর মানুষ।”
- গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা: তিনি মন্তব্য করেন যে, এই স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও ‘গণতন্ত্রের ট্রেনে’ উঠে গেল। তিনি ওয়াদা করেন যে, দেশে আর কোনো ‘পাতানো নির্বাচন’ বা কেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি থাকবে না।
- গুজব ও এআই হুমকি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘এআই জেনারেটেড কন্টেন্ট’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি উন্নত দেশগুলোও এটি পুরোপুরি মোকাবিলা করতে পারছে না।
- গণমাধ্যমের ভূমিকা: তিনি মূলধারার গণমাধ্যমকে সত্য তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচার রোখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “৫০ শতাংশ অপপ্রচার হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে, যেখানে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই সত্য তথ্য দিয়েই আমাদের এই অপতথ্য মোকাবিলা করতে হবে।”
পঞ্চগড়ের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় কনকনে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোরবেলা থেকে নারীদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সিইসি আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
















