আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় নরওয়েতে মোতায়েন ব্রিটিশ সেনাসংখ্যা আগামী তিন বছরে দ্বিগুণ করা হবে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার সেনা থাকলেও তা বাড়িয়ে দুই হাজারে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি।
ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে আর্কটিক ও হাই নর্থ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, শীতল যুদ্ধের সময়কার ঘাঁটি পুনরায় চালু এবং সাবমেরিন তৎপরতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হিলি বলেন, প্রতিরক্ষা চাহিদা বাড়ছে এবং শীতল যুদ্ধের পর থেকে আর্কটিক নিরাপত্তায় রাশিয়ার হুমকি এখন সবচেয়ে বড়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার প্রস্তাবিত ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ উদ্যোগের আওতায় নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এটি ন্যাটোর বিদ্যমান ‘বাল্টিক সেন্ট্রি’ ও ‘ইস্টার্ন সেন্ট্রি’র আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে।
বর্ধিত উপস্থিতির অংশ হিসেবে মার্চে ন্যাটোর ‘কোল্ড রেসপন্স’ মহড়ায় ১,৫০০ রয়্যাল মেরিন কমান্ডো অংশ নেবেন। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনে অনুষ্ঠিত এই মহড়ার লক্ষ্য চরম আর্কটিক পরিবেশে যৌথ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য নেতৃত্বাধীন যৌথ অভিযান বাহিনী ‘লায়ন প্রোটেক্টর’ নামে আরেকটি মহড়া পরিচালনা করবে, যেখানে বিমান, স্থল ও নৌবাহিনী অংশ নেবে। এতে নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও ড্যানিশ প্রণালিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার অনুশীলন হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইন সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গত বছর যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে সমুদ্রতলের কেবল রক্ষায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় দুই দেশের নৌবাহিনী যৌথভাবে রুশ সাবমেরিন নজরদারি করবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ব্রিটিশ জলসীমায় রুশ সাবমেরিনের উপস্থিতি ৩০ শতাংশ বেড়েছে। উত্তর আটলান্টিকে রুশ সাবমেরিন কার্যক্রম এখন শীতল যুদ্ধের সময়কার মাত্রায় ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে তারা।
















