যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তাহলে “খুব কঠোর কিছু” করা হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার—বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের কাছে ছাড় দাবি করছে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হয় একটি চুক্তি হবে, না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, যেখানে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা নিয়েও কথা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথাও বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ও কঠোরভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম। ইরানের প্রতি তাঁর তিনটি প্রধান দাবি হলো—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ।
এর আগে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আবারও ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি চালু করেছেন। ইরান অবশ্য বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।
ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেও উত্তেজনা বেড়েছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারো মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। তেহরান দাবি করছে, সহিংসতায় নিরাপত্তা সদস্যরাও নিহত হয়েছেন এবং বিদেশি শক্তির মদদ ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কয়েকজন সিনেটর একটি প্রস্তাব এনেছেন, যাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২৫টি সংগঠন কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে নির্বাহী ক্ষমতার একতরফা ব্যবহারে লাগাম টানার আহ্বান জানিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ হলে তা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে—শর্ত শুধু একটাই, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মানতে হবে।
















