৯-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সমন্বয় নিশ্চিতে কাজ করবে এই বিশেষ সেন্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘জেলা সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার’ গঠন করা হয়েছে। জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২৯টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কমান্ড সেন্টার ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ডসহ সব গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এখান থেকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন জনপদ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার দিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের নির্বাচনী নিরাপত্তার মূল চিত্র:
- আসনভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: জেলার ৪টি আসনের মোট ৫৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে কক্সবাজার-১ আসনে ৯৩টি, কক্সবাজার-২ আসনে ৫৯টি, কক্সবাজার-৩ আসনে ১০৯টি এবং কক্সবাজার-৪ আসনে ৬৮টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
- যৌথ অভিযান ও উদ্ধার: গত ১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৬১টি যৌথ অভিযানে ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১০০ রাউন্ড গুলি, ৯৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদক।
- বিশেষ মোতায়েন: উপকূল ও দ্বীপাঞ্চল বিশেষ করে সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান সম্প্রতি কক্সবাজার পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমান্ড সেন্টার থেকে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই—ভোটারদের জন্য নির্বিঘ্নে ভোটদানের পরিবেশ বজায় রাখা।
















