যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শুরু হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিচার মামলায় বিশ্বের বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ‘আসক্তি তৈরির যন্ত্র’ নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের প্রভাব নিয়ে।
লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ও জুরিদের সামনে সূচনাবক্তব্যে বাদীপক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার বলেন, তার মক্কেল কেজিএম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগেছেন। তার ভাষায়, এসব কোম্পানি সচেতনভাবেই শিশুদের মস্তিষ্কে আসক্তি তৈরি করার জন্য প্ল্যাটফর্ম নকশা করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটেছে কেজিএম অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালে, তাই তাকে নামের আদ্যক্ষর বা কেলি জি এম নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। ল্যানিয়ার অভিযোগ করেন, তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মের ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কবার্তা দেয়নি মেটা ও ইউটিউব।
আদালতে বক্তব্যের সময় শিশুদের ব্লক দিয়ে ‘আসক্তি’, ‘মস্তিষ্ক’ ও ‘শিশু’ শব্দগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী দুটি করপোরেশন শিশুদের মস্তিষ্কে আসক্তি প্রকৌশলগতভাবে তৈরি করেছে। তিনি আদালতে অভ্যন্তরীণ নথি ও শীর্ষ নির্বাহীদের ইমেইল দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
২০১৫ সালের একটি ইমেইলের অংশবিশেষ তুলে ধরে তিনি জানান, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের সময় ব্যয় ১২ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইউটিউবের ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয়, বেশি বিজ্ঞাপন আয়ের জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কিশোর ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করেছে এবং ব্যস্ত অভিভাবকদের কাছে প্ল্যাটফর্মকে কার্যত ‘ডিজিটাল বেবিসিটার’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
অন্যদিকে, মেটা ও ইউটিউবের আইনজীবীরা দাবি করেন, কেজিএমের মানসিক সমস্যার পেছনে পারিবারিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত নানা সংকট দায়ী, প্ল্যাটফর্মের অবহেলা নয়। মেটার আইনজীবী পল শ্মিট বলেন, কেজিএম শৈশব থেকেই পারিবারিক সহিংসতা, অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে বড় হয়েছেন এবং ছোট বয়স থেকেই চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত নথিতে কেজিএমের নিজের বক্তব্যও দেখানো হয়, যেখানে তিনি মায়ের আচরণ ও পারিবারিক পরিস্থিতিকে তার মানসিক কষ্টের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্মিট বলেন, মানসিক ক্ষতির মামলায় এসব বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে যাওয়া এই বিচারকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুরূপ মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বিশেষজ্ঞ, নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্য, এবং ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। সাবেক মেটা কর্মীরাও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়ে হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে বক্তব্য দিতে পারেন।
এই মামলার রায় ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে, যা হাজারো পরিবার, অঙ্গরাজ্যের কৌঁসুলি ও স্কুল জেলা সংশ্লিষ্ট মামলায় যুক্ত হতে পারে।
এরই মধ্যে স্ন্যাপচ্যাটের মালিক স্ন্যাপ ও টিকটক গত মাসে কেজিএমের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং তারা আর এই মামলার আসামি নয়।
















