কিউবার জ্বালানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিউবাকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভিযোগ তুলেছে। মস্কো বলছে, সমাজতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্রটির জ্বালানি পরিস্থিতি এখন ‘চরম সংকটাপন্ন’।
সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, কিউবাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সম্ভাব্য সব উপায় নিয়ে আলোচনা করছে রাশিয়া। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর ও দমনমূলক পদক্ষেপ কিউবার জন্য মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পৃথক এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কিউবা ও ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি মস্কোর সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র এই দেশগুলোর জনগণেরই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারির শুরুতে এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এর ফলে কিউবার জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছে, মেক্সিকোর মতো দেশগুলো কিউবায় তেল পাঠালে তাদের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সরকার বাধ্য হয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু, জ্বালানি বিক্রি সীমিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা এবং স্কুলের ক্লাসের সময় কমিয়ে আনা।
কিউবা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকেও জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে জেট জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে কানাডার এয়ার কানাডা জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবাগামী ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব সতর্ক করেছেন, কিউবার জ্বালানি চাহিদা পূরণ না হলে দেশটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘নিষ্ঠুর আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই নীতি কিউবার জনগণের রাজনৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি কঠিন এবং বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, তবে কিউবা নিজের শর্তে সংলাপে বসতে প্রস্তুত।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলও জানিয়েছেন, চাপের মুখে নয়, বরং সম্মানের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হাভানা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কিউবায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ইচ্ছা গোপন করেননি।
অন্যদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম কিউবার জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কিউবায় তেল সরবরাহ পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক সব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, একটি জাতিকে এভাবে শ্বাসরোধ করা অত্যন্ত অন্যায্য।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে কিউবাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দেশটিতে তেল সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার পর মেক্সিকোই ছিল কিউবার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় মেক্সিকোও এখন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে।
















