যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাসাকায় প্রবেশ করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই শহরে সোমবার সরকারি বাহিনীর বড় একটি বহর প্রবেশ করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে শহরজুড়ে কারফিউ ঘোষণা করেছিল এসডিএফ। স্থানীয় বাসিন্দারা সিরীয় বাহিনীর প্রবেশের সময় উল্লাস প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে শিগগিরই কোবানি ও কামিশলি শহরেও সরকারি বাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার এসডিএফ ও সিরীয় সরকারের মধ্যে একটি বিস্তৃত সমঝোতা হয়, যার আওতায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হতে সম্মত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার মুখে কয়েকটি এলাকা ছেড়ে দেয় এসডিএফ, এর আগে কয়েক মাস ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল।
বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, হাসাকার তথাকথিত নিরাপত্তা এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় ভবনগুলোতে সিরীয় বাহিনী অবস্থান নেবে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও কুর্দি নিরাপত্তা সূত্র আগেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।
হাসাকার বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সাংবাদিক জানান, প্রায় দেড় শতাধিক সিরীয় সেনাসদস্য নিয়ে একটি কনভয় শহরে প্রবেশ করেছে। যেখানে আগে এসডিএফের চেকপোস্ট ছিল, সেখানে এখন সিরীয় সেনারা দায়িত্ব পালন করছে। এতে বোঝা যায়, গৃহযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চল কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় ঐক্য ও জাতীয় পুনর্মিলনের পথে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর এই পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটন।
একসময় এসডিএফ ছিল সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র এবং উগ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার হলে এসডিএফের অবস্থান দুর্বল হতে থাকে।
চুক্তি অনুযায়ী, সিরীয় সেনাবাহিনীর অধীনে একটি নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে, যেখানে এসডিএফের তিনটি ব্রিগেড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি কোবানি শহরের বাহিনী নিয়ে একটি পৃথক ব্রিগেড গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যা আলেপ্পো প্রদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এছাড়া এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার কোবানি সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকাতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্রোহীদের হাতে আসাদ সরকারের পতনের ১৪ মাস পর দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আল শারা। তবে গত বছর আলাউই ও দ্রুজ সম্প্রদায়কে ঘিরে সহিংসতার কারণে এই প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছিল বলে বিশ্লেষকদের মত।















