জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তার নামে দেওয়া একটি এক্স পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ জন নারী প্রার্থী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, এ ধরনের চিন্তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে কাম্য হতে পারে না। একটি বড় রাজনৈতিক দল যদি নারীদের নেতৃত্বকে অযোগ্য বলে মনে করে এবং সেই ধারণা সমাজে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে তা নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও অবমাননাকে আরো উসকে দিতে পারে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী প্রার্থীরা হলেন রংপুর-৪ আসনের প্রগতি বর্মণ তমা, গাইবান্ধা-৫ আসনের রাহেলা খাতুন, জয়পুরহাট-১ আসনের তৌফিকা দেওয়ান লিজা, ঢাকা-৫ আসনের শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭ আসনের সীমা দত্ত, গাজীপুর-১ আসনের তসলিমা আক্তার বিউটি, মৌলভীবাজার-২ আসনের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৫ আসনের মুনতাহার প্রীতি, চট্টগ্রাম-১০ আসনের আসমা আক্তার এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের দীপা মজুমদার।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে জামায়াত আমিরের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। সেখানে নারীরা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন এবং সৃষ্টিগত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন।
এরপর ৩১ জানুয়ারি তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে একই ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের ঘরের বাইরে আনা হলে তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন, যা পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ। তবে পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল।
এ বিষয়ে বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থীরা প্রশ্ন তোলেন—দলটি যদি তাদের ইশতেহারে নারী নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে সাক্ষাৎকারে ভিন্ন অবস্থান কেন প্রকাশ পেল। তারা বলেন, এতে ইশতেহার ও বাস্তব বিশ্বাসের মধ্যে অসংগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং ভোটের রাজনীতিতে ভিন্ন বার্তা দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপিত হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে অতীতেও নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এসেছে, যা পরে সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের অন্তত ৫ শতাংশ নারী রাখার প্রতিশ্রুতি থাকলেও জামায়াত এ পর্যন্ত একজন নারী প্রার্থীও মনোনয়ন দেয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার জন্য তারা সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।
















