নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর কঠোর অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের মুখে গত শনিবার চারজনের পর এবার একযোগে আরো ১২ জন কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ২ দিনে মোট ১৬ জনকে ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান কর্মসংস্থান কর্মকর্তা (সিপিও) স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এই বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে আজ সোমবার প্রথম প্রহরেই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ আদেশে বদলি হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন— পরিবহন বিভাগের মোহাম্মদ শফিউদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মামুন; পরিকল্পনা বিভাগের মো. জহিরুল ইসলাম; বিদ্যুৎ বিভাগের হুমায়ুন কবির; প্রশাসন বিভাগের শাকিল রায়হান; যান্ত্রিক বিভাগের মানিক মিজি, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসূল বুলবুল ও মো. রাব্বানী; প্রকৌশল বিভাগের মো. শামসু মিয়া এবং মাতারবাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পের খন্দকার মাসুদুজ্জামান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ ঘোষিত দুই দিনের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় অচল ছিল। বিকেলে কাজ শুরু হলেও দাবি আদায় না হওয়ায় আন্দোলনের সময় আরো এক দিন বাড়ানো হয়েছে।
আজ সোমবারও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে আমাদের কর্মীদের বদলি করছে। এই বদলি আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এনসিটি রক্ষায় আমাদের আন্দোলন চলবে।
তবে একে ‘নিয়মিত প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করেছেন বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক। তিনি জানান, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজন মেটাতেই এই বদলি করা হয়েছে।
















