তফসিলের পর সহিংসতা বৃদ্ধি, খুন, হামলা ও নাশকতায় উদ্বেগ; হটস্পট কুমিল্লা–লক্ষ্মীপুর
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে; তফসিল ঘোষণার পর চারটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত ১৪৪টি সহিংসতার তথ্য মিলেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়তে শুরু করে, যা প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জনসভা, গণসংযোগ ও নির্বাচনী কর্মসূচিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নির্বাচনী কর্মসূচিতে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনা। একই সময়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে চারটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ৫৫টি সংঘর্ষ, প্রার্থীদের ওপর একাধিক হামলা, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রচারে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা মিলিয়ে মোট ১৪৪টি সহিংসতা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনা ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরে ছড়িয়ে পড়েছে।
গাজীপুর-২ আসনে এক জোটপ্রার্থীর গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া এক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের দুই কর্মী-সমর্থকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
হটস্পট যখন কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরকে সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রার্থীর বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুরেও নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে একাধিক দফা সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এ ছাড়া পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কক্সবাজারসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোথাও ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার, কোথাও প্রার্থীর কাছে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিদ্রোহী প্রার্থী, স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘাটতি পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, টার্গেট কিলিং বা নাশকতার ঝুঁকি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ ও সতর্ক ভূমিকার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।
নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর অভিযান ও টহল বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেড় হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছে, নির্বাচনী মাঠে আইনভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
















