উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরির কাজ অগ্রসর হচ্ছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় লারিজানি বলেন, কৃত্রিম গণমাধ্যমিক উত্তেজনার বিপরীতে আলোচনা শুরুর একটি কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে আলোচনার সম্ভাব্য রূপরেখা বা সময়সূচি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার ধারণা ইরান সামরিক সংঘাতের পথে না গিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় নৌবহর মোতায়েনের কথাও উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে একটি বড় নৌবহর পাঠিয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে একটি বিমানবাহী রণতরী। এতে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে হুমকির পরিবেশ ছাড়া। এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান আলোচনায় রাজি না হলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পরিকল্পিত নৌ মহড়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে, তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেই বাহিনীর কাছ থেকেই আবার পেশাদার আচরণ দাবি করা হচ্ছে, যা দ্বিচারিতার শামিল।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অঞ্চলে বাইরের শক্তির উপস্থিতি বরাবরই উত্তেজনা কমানোর বদলে বাড়িয়েছে। এ অবস্থাকে অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে তেহরান।
ইরানের রাজধানী থেকে পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে আলোচনার প্রস্তুতি এগোনোর বিষয়ে লারিজানির বক্তব্যকে তারা ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানি কর্মকর্তারা বিভিন্ন মিত্র দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যাতে সংঘাত এড়ানো যায়।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে তেহরানে আলি লারিজানির বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার শান্তিপূর্ণ সমাধান ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সংঘাতের ক্ষতি থেকে অঞ্চলবাসীকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।















