ঢাকা: বেতনের ওপর ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়াসহ তিন দফা দাবি আদায়ে সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা। রবিবার (১৯ অক্টোবর) প্লেট-বাটি হাতে ভুখা মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফিরে গিয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব এবং আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী হাইকোর্ট মাজার মোড়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
শিক্ষক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী বলেন,
“আগামীকাল থেকে আমরা আমরণ অনশনের কর্মসূচিতে যাচ্চি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।”
সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ২০ শতাংশে অনড় দাবি আদায়ের আন্দোলনের মধ্যেই সরকার থেকে শিক্ষকদের জন্য ৫ শতাংশ ভাতা (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা হারে) দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শিক্ষকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা তাঁদের মূল দাবি ২০ শতাংশে অনড় রয়েছেন।
এই বিষয়ে দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী বলেন, “আজ ৫ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা একটি প্রাথমিক বিজয় বলে মনে করছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যখন বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ, ১৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে, তখনই চূড়ান্ত বিজয় হবে। প্রজ্ঞাপন জারি না করলে আমরা এখান থেকে শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে যাব না।”
বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা এর সঙ্গে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিও যুক্ত করেন এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি দেন।
আন্দোলনের মধ্যেই সরকার শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ অথবা সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিলেও শিক্ষকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা ২০ শতাংশের দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরবেন না।
অধ্যক্ষ আজিজী বলেন,
“আজ ৫ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা একটি প্রাথমিক বিজয় মনে করছি। চূড়ান্ত বিজয় হবে যখন ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”
কর্মবিরতি ও ভুখা মিছিল শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে গত ১৩ অক্টোবর থেকে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
রোববার আন্দোলনরত শিক্ষকেরা থালা-বাটি হাতে ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাইকোর্টের মাজার গেইটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটকে দিলে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিতে ফিরে যান। চলমান আন্দোলনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বিএনপি মহাসচিব ও ডিএমপি থেকে সাড়া অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুল তাদের দাবি নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার সাথে কথা বলবেন এবং আগামী ২২ অক্টোবর শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া, ডিএমপি কমিশনার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছুটা সময় চেয়েছেন বলেও তিনি জানান।
ডাকসুর ভিপির সমর্থন ও হুঁশিয়ারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,
“অন্তর্বর্তী সরকারে যাদের দেখছি তারা সবাই শিক্ষক। শিক্ষক হয়ে শিক্ষকদের বঞ্চনা অনুধাবন করতে পারছেন না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
যদি শিক্ষকদের দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তিনি সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
















