দুই মাসে ৪ শতাধিক বিমান হামলা; জাতিসংঘ বলছে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত বিতর্কিত নির্বাচন চলাকালে ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালীন সামরিক বাহিনী আনুমানিক ৪০৮টি আকাশপথে হামলা চালিয়েছে, যার শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ।
৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় এই কথিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক জান্তা বন্দুকের মুখে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করেছে এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। বিশেষ করে গত ২২ জানুয়ারি কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপে একটি জনবহুল এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। এছাড়া সাগাইং এবং রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন বিরোধী প্রচারণার অভিযোগে কয়েক শ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনকে সর্বোচ্চ ৪৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, এই নির্বাচনে বাস্তুচ্যুত নাগরিক এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ বিশাল এক অংশকে ভোটাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছে। যদিও সামরিক সরকার দাবি করছে যে এটি গণতন্ত্রে ফেরার পথ, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ভলকার তুর্ক বিশ্ব সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামরিক জান্তা বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও কিছু নির্বাচন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
















