নির্বাচনী সমঝোতা হলেও আদর্শিক অবস্থান বদলায়নি বলে স্পষ্ট বার্তা
আলাদা ইশতেহারে ফ্যাসিবাদবিরোধী ও সংস্কার রাজনীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিলেও নিজেদের সংস্কারমূলক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই জোট মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা; আদর্শিক অবস্থান ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি শুরু থেকেই যে পথে রয়েছে, সেখানেই তারা অনড়।
গোলশানে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটটি গড়ে উঠেছে ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত হওয়া মানেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভাবনা থেকে সরে যাওয়া নয়।
আলাদা ইশতেহারে সংস্কারের বার্তা
নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের অংশ হয়েও আলাদা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে অটল। একসঙ্গে নির্বাচন করলেও জোটের প্রতিটি দলের রাজনৈতিক দর্শন ও লক্ষ্য আলাদা থাকতে পারে—এটাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক রীতি।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শহীদ মিনারে দেওয়া তার বক্তব্যে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং পাঁচ দশকের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল, সেখান থেকেই এনসিপির রাজনীতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সেই দর্শন আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।
জোট নিয়ে বিতর্ক, অবস্থান অপরিবর্তিত
জোট গঠনের পর নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে—এ কথা স্বীকার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সমর্থন ও বিরোধিতা দুই দিক থেকেই আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের যে দাবি নিয়ে এনসিপি যাত্রা শুরু করেছিল, তা কোনোভাবেই বদলায়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে জোটের ভেতর থেকেই এনসিপি নিজেদের ইশতেহারে থাকা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। এ কারণেই একদিকে এনসিপি যেমন আলাদা ইশতেহার দিয়েছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও পৃথক ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।
গণভোটে সংস্কারের সম্ভাবনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে অনেক সুযোগ হারানো হলেও এখনো বড় ধরনের সংস্কারের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণভোটের মাধ্যমে যেসব সংস্কার অঙ্গীকার আদায় করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি জনগণের প্রতি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে পরিবর্তনের সুযোগ এখনও শক্তভাবে বিদ্যমান। এনসিপির কাছে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কোনো এককালীন নির্বাচনী লক্ষ্য নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ। সেই লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিক রাজনৈতিক পথচলাই একমাত্র উপায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
















