দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক ভিটায় আবেগী তারেক; মোকামতলার জনসমুদ্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ জেলা বগুড়ায় ঝটিকা সফরে এসে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আবারও প্রমাণ করুন যে বগুড়ার মাটি বিএনপির দুর্জয় ঘাঁটি।” ১৯ বছর পর নিজের নির্বাচনি এলাকায় ফিরে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান নিজেকে ‘বগুড়ার সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ধানের শীষ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এলাকার ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পথসভা চলাকালে মহাস্থানগড় থেকে রহবল পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলমের পক্ষে এই পথসভায় অংশ নেন। এর আগে তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক মহাস্থানগড়ে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী মাহিসওয়ার (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
উন্নয়ন ও পৈতৃক ভিটার স্মৃতি
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বগুড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
- মডেল বগুড়া: “আমি বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়তে চেয়েছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল বগুড়ার উন্নয়নের আদলে বাকি ৬৩টি জেলাকে সাজানো।”
- উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি: মোকামতলাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা আবারও আপনাদের সেবা করতে চাই। এলাকার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করে আধুনিক শিবগঞ্জ ও বগুড়া গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
- নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা: ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকার জন্য তিনি দলীয় কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে তারেক-জুবাইদা
পথসভার আগে সকালে তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এক মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেন:
১. হুইলচেয়ার বিতরণ: শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন তারা।
২. প্রতিভা বিকাশ: ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতিভা দেখে অভিভূত হয়ে বলেন, “এই শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা সম্পদ। আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকব।”
জনস্রোত ও উৎসবের আমেজ
তারেক রহমানকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমায় হাজার হাজার মানুষ। শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় জনস্রোতের কারণে যান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে যায়। মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে বলেন, ভোটাররা এবার ভয়হীন পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত।
পথসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে গাবতলী ও শাজাহানপুরেও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
















