আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের দুর্গম তিরাহ অঞ্চল থেকে সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় সত্তর হাজারের বেশি মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া মানুষের বড় অংশই নারী ও শিশু।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিরাহে পাকিস্তান তালেবানের বিরুদ্ধে শিগগিরই সেনা অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় এই জনস্রোত তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এসব দাবি নাকচ করে বলেছেন, তিরাহ এলাকায় কোনো সামরিক অভিযান চলছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই।
ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মানুষের এলাকা ছাড়ার পেছনে মূল কারণ হলো তীব্র শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়া, সামরিক তৎপরতা নয়। যদিও স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্ভাব্য সেনা অভিযানের আশঙ্কায় তারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়, সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তিরাহ ছেড়ে যেতে হবে। এর আগে গত আগস্টে উত্তর-পশ্চিমের বাজাউর জেলায় তালেবানবিরোধী অভিযানে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শফি জান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সামরিক অভিযান নিয়ে অবস্থান বদলের কারণেই বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের নেতা ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি তিরাহে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে তা ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছেন।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তান তালেবানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালিয়ে যাবেন। তাদের দাবি, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর অনেক পাকিস্তানি তালেবান সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে তিরাহে আশ্রয় নিয়েছে এবং অভিযানের সময় সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
স্থানীয় প্রশাসক তালহা রফিক আলম জানান, তিরাহর মোট দেড় লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিজেদের বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধন করেছে। নিবন্ধনের সময়সীমা ২৩ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে পারবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিরাহ ছেড়ে আসা ৩৫ বছর বয়সী জার বাদশাহ বলেন, সম্প্রতি মর্টার বিস্ফোরণে তার এলাকায় এক নারী নিহত এবং চার শিশু আহত হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাম্য প্রবীণরা সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বারা এলাকার একটি সরকারি স্কুলে স্থাপিত নিবন্ধনকেন্দ্রে শত শত মানুষ সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া ধীরগতির অভিযোগ করেছেন। ২৭ বছর বয়সী নরেন্দ্র সিং জানান, নিরাপত্তা শঙ্কা ও ভারী তুষারপাতে খাদ্য সংকট বেড়ে যাওয়ায় শিখ সম্প্রদায়ের মানুষও তিরাহ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিরাহ আলোচনায় আসে, যখন একটি সন্দেহভাজন বোমা তৈরির স্থানে বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়। তখন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, নিহতদের বেশিরভাগই পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে যুক্ত। তবে স্থানীয় নেতারা বলেন, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষও ছিল।
















