চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম চীন সফর, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক গলতে শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সফরের আগে কিয়ার স্টারমার বলেন, চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি পরিণত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার সময় এসেছে।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্টারমার বলেন, তিনি চান উভয় দেশ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করুক এবং একই সঙ্গে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেসব নিয়েও খোলামেলা ও অর্থবহ আলোচনা হোক।
জবাবে শি জিনপিং বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে জটিল ও পরস্পর-নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করে আরও বেশি সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার বৈঠকটি প্রায় ৪০ মিনিট চলার কথা ছিল। এরপর একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গেও কিয়ার স্টারমারের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তিন দিনের সফরে চীনে অবস্থান করছেন কিয়ার স্টারমার। তার সঙ্গে প্রায় ৫০টি ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বিমান পরিবহন ও ওষুধ শিল্পের বড় বড় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের কোনো প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করেছিলেন। সে সময় বেইজিংয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কিয়ার স্টারমারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে মিলের জায়গাগুলো খুঁজে বের করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন ছিল যুক্তরাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ওই বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৭ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ভেতরে চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ নিয়ে সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও স্টারমার বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী।
ব্যবসার পাশাপাশি, অবৈধ অভিবাসী পাচার ঠেকাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় নেতা নতুন ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৯ সালে হংকংয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর সেখানে চীনের কড়াকড়ি নীতির কারণে যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। যুক্তরাজ্য হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী এক গণমাধ্যম উদ্যোক্তার বিচার নিয়েও প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং শুল্ক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লন্ডন ও বেইজিং—উভয় দেশের সম্পর্কই চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু ভূখণ্ড-সংক্রান্ত হুমকিও উত্তর আটলান্টিক জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
















