জাল নথি ও ভিসা জালিয়াতি রোধে কঠোর হচ্ছে সরকার; অভিবাসন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বেগ
বিদেশের একটি মাত্র দেশে গত বছর ৬ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নথিপত্রের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে জানানো হয় যে, স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার এই প্রবণতা এবং ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যবহারের ফলে কিছু দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেন। তাঁরা বাংলাদেশের ‘অভিবাসীদের মানব পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তথ্যমতে, ইমিগ্রেশন পুলিশ গত বছর প্রতিদিন গড়ে ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে বিমানবন্দর থেকে ‘অফলোড’ বা ফেরত পাঠিয়েছে। দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে ভিসা আবেদনের ঘটনা বাড়ছে, যার ফলে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও সিআইডি এখন এসব ঘটনায় কঠোরভাবে মামলা দায়ের করছে।
বৈঠকে বিএমইটি (BMET) জানিয়েছে, তাদের প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণরূপে স্বয়ংক্রিয় এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত, ফলে বিদেশগামী ও প্রত্যাগতদের নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জোর দিয়ে বলেন, জাল নথি জালিয়াতি রোধে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে কিউআর কোড প্রবর্তন এবং হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়, যা ভবিষ্যতে নথিপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
















