দক্ষিণ এশিয়ার নৌ-বাণিজ্য ‘হাব’ হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম; কোল্ড চেইন শিল্প ও আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত
বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বন্দর পরিদর্শনকালে এই আশ্বাস প্রদান করেন। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত বন্দরের সাম্প্রতিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার নৌ-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে বন্দরকেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশংসা করেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। মার্কিন কোস্টগার্ডের ‘আইএসপিএস’ পর্যবেক্ষণে জিরো অবজারভেশন প্রাপ্তি বন্দরের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
বন্দরের অভাবনীয় অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাক্ষাৎকালে বন্দর চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদলকে বন্দরের সাম্প্রতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন:
- রেকর্ড হ্যান্ডলিং: কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড এবং জাহাজের ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
- লালদিয়া ও বে-টার্মিনাল: লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর: এই প্রকল্প চালু হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে।
কোল্ড চেইন ও মার্কিন বিনিয়োগে আগ্রহ
চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পচনশীল পণ্যের গুণগত মান রক্ষায় ‘রেফার কন্টেইনার’ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন সরকার। বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত জমি বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে বিশ্বাসী এবং চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন এই অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি।”
আলোচনায় বিগত সময়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো উঠে আসে। বন্দর চেয়ারম্যান জানান:
১. শ্রম অসন্তোষ ও সিন্ডিকেট নির্মূল: বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য ও অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করে বন্দরে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
২. ডিজিটালাইজেশন: আগের প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে পুরো বন্দর ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
৩. নিরাপত্তা নিশ্চিত: মার্কিন কোস্টগার্ডের মানদণ্ড অনুযায়ী বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইকোনমিক ইউনিট চিফ মাইকেল পিনেল, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্টসহ চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
















