ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বসবাসকারী মেহদি গালেব নাসরের জীবনের গল্প দেশটির ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। স্থায়ী কোনো কাজ না থাকায় স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে তাকে প্রায়ই না খেয়ে রাত কাটাতে হয়।
কয়েক বছর আগেও নাসর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইসক্রিমের ঠেলা ঠেলে সংসার চালাতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় সেই কাজ চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক চোখে প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেলতেন, অনেক সময় রাতে বাড়ি ফিরতে না পেরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হতো।
বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী নাসর স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে সানায় বসবাস করছেন। চলমান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মানবিক সংকটের কারণে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় তিনি এখন রাস্তায় রাস্তায় প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করেন। স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হন, যাতে তিনি পথ হারিয়ে না ফেলেন।
এই অনানুষ্ঠানিক কাজ থেকে যে আয় হয়, তা সাত সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম খাবার জোগাতেও যথেষ্ট নয়। একদিন তিনি মাত্র ছয়শ ইয়েমেনি রিয়াল আয় করেন, যা দিয়ে রাতের খাবার কেনাও সম্ভব হয়নি বলে জানান।
ইয়েমেন বর্তমানে নতুন করে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দিকে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরুতে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ আরও তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, আরও অন্তত দশ লাখ মানুষ জীবনসংকটাপন্ন ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে।
দীর্ঘ যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, বেতন না পাওয়া, মুদ্রাস্ফীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
নাসরের পরিবারের মতো অসংখ্য ইয়েমেনি পরিবার প্রতিদিন খাবার জোগাড়ের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। গ্যাস না থাকায় অনেক সময় রান্নাও করা সম্ভব হয় না। গ্যাস থাকলেও শুধু ভাত রান্না করাই তাদের সাধ্যের মধ্যে পড়ে। তাও সব সময় সম্ভব হয় না।
নাসর বলেন, গত রাতে তিনি, তার স্ত্রী ও পাঁচ মেয়ে কেউই রাতের খাবার খেতে পারেননি। তার মতে, দুই হাজার পনেরো সালে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের পর থেকেই ইয়েমেনিদের জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
খাদ্য কমিয়ে দেওয়া, অনানুষ্ঠানিক কাজ করা এবং না খেয়ে রাত কাটানো এখন ইয়েমেনের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা। নাসরের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, পরদিন তার মেয়েদের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারবেন কি না—এই অনিশ্চয়তা।
















