দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ঘুষ গ্রহণের মামলায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে কিমকে স্টক মূল্য কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। তবে ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, কিম কন হি বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে অন্তত দুই লাখ ডলারের সমমূল্যের অর্থ ও বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছিলেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল দামি ব্যাগ ও হীরার নেকলেস। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর প্রভাব কাজে লাগাতে এসব উপহার দেওয়া হয়েছিল।
প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, কিম আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে রাষ্ট্র ও ধর্মের সাংবিধানিক পৃথকীকরণ নীতিকে ক্ষুণ্ন করেছেন। মামলার এক কৌঁসুলি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার অপব্যবহারে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
কিম কন হি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। গত মাসে দেওয়া শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গভীরভাবে অন্যায়। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, তেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি না হয়েও তিনি সমস্যার সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের ভূমিকা ও দায়িত্বের কথা ভাবলে মনে হয় তিনি অনেক ভুল করেছেন।
কিমের স্বামী, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল, গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করার ঘটনায় তাকে ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আলাদা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবিও ঝুলে রয়েছে।
২০২৩ সালে গোপন ক্যামেরার ভিডিওতে কিম কন হিকে একটি দামি হ্যান্ডব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়, যা পরে বড় কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়। ওই ঘটনায় তখনকার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের জনপ্রিয়তা আরও তলানিতে নেমে যায়।
এই কেলেঙ্কারির প্রভাব পড়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে। নির্বাচনে তার দল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়।
কিমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত তিনটি বিল ইউন সুক ইওল ভেটো করেছিলেন। সর্বশেষ ভেটোর এক সপ্তাহ পরই তিনি সামরিক আইন জারি করেন, যা পরে তার পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
কিম কন হির সাজা ঘোষণার কয়েক দিন আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু-কে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বেসামরিক শাসন স্থগিতের ঘটনায় ইউন সুক ইওলকে সহায়তার দায়ে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা প্রসিকিউশনের দাবির চেয়েও বেশি।
















