টার্গেট কিলিংয়ে ব্যবহৃত শুটারদের বড় অংশ বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে
রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশো ভাড়াটে খুনি। ডিএমপির একটি অভ্যন্তরীণ তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শুটার সক্রিয় রয়েছে মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে, যা নগর নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীতে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ভাড়াটে খুনিদের শনাক্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর একটি তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকায় বর্তমানে সক্রিয় ভাড়াটে খুনির সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশো।
তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়াটে খুনি রয়েছে মতিঝিল বিভাগে—সংখ্যা শতাধিক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়ারী বিভাগ, যেখানে সক্রিয় ৭৩ জন শুটার। তেজগাঁও ও মিরপুর বিভাগে রয়েছে যথাক্রমে ৬১ ও ৬০ জন করে ভাড়াটে খুনি।
এছাড়া রমনা বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগে ২৪ জন, গুলশান বিভাগে ১৬ জন এবং উত্তরা বিভাগে রয়েছে ১৩ জন ভাড়াটে খুনি।
থানাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি শুটার রয়েছে মতিঝিল থানায়—১০৬ জন। এরপর পল্লবী থানায় ৪২ জন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুর থানায় ৩৯ জন ভাড়াটে খুনি সক্রিয় রয়েছে। কদমতলী, শ্যামপুর ও নিউমার্কেট থানায় রয়েছে যথাক্রমে ৩৪, ২১ ও ২০ জন করে শুটার।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এসব ভাড়াটে খুনির অধিকাংশের সঙ্গে রাজধানীর ১৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর যোগসাজশ রয়েছে, যারা বিদেশে অবস্থান করে হত্যার সুপারি ও নির্দেশনা দিচ্ছে। ডিএমপি বলছে, তালিকাভুক্ত অনেক অপরাধী আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতারে সময় লাগছে।
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, চিহ্নিত ও অভ্যাসগত অপরাধীরা যেন এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পরিকল্পিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভাড়াটে খুনিদের সক্রিয়তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি। তারা বলছেন, দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব অপরাধী চক্র নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে জননিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
















